
রাজিবপুরের কৃষকদের অভিযোগ: কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলায় একটি ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় প্রায় ৪০ বিঘা জমির ধান পুড়ে নষ্ট হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্তত ৪৫ জন কৃষক এই ঘটনার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, জানায় স্থানীয় সূত্র। ঘটনাটি উপজেলার স্লুইসগেট এলাকায় ঘটে।
ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের অবস্থা: ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অভিযোগ, গত সোমবার রাতে ভাটা থেকে অতিরিক্ত ধোঁয়া নির্গত হওয়ায় আশপাশের কৃষিজমির ধানগাছ পুড়ে যায়। শুধু ধান নয়, ওই ধোঁয়ার প্রভাবে বসতবাড়ির আশপাশের ফলজ গাছ ও বাঁশঝাড়ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছেন তারা।
ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিদর্শন: সরেজমিনে শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে গিয়ে দেখা যায়, ক্ষতিগ্রস্ত জমিগুলোর ধানগাছ শুকিয়ে কালচে হয়ে গেছে। অনেক জায়গায় শিষ নষ্ট হয়ে নেতিয়ে পড়েছে।
কৃষকদের আর্থিক ক্ষতি: স্থানীয় কৃষক আবদুস ছালাম জানান, তিনি ২৫ বিঘা জমিতে ধান আবাদ করেছিলেন। ঘটনার আগের দিন জমি দেখে গেলেও পরদিন এসে দেখেন প্রায় সব ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। এতে তিনি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ক্ষতিপূরণ চাইতে গেলে ভাটার পক্ষ থেকে অসহযোগিতা ও দুর্ব্যবহারের শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন।
অতিরিক্ত ধোঁয়ার কারণ: আরেক কৃষক শহীদ মিয়া বলেন, ভাটার মৌসুম শেষে অতিরিক্ত কয়লা পোড়ানোর কারণে এই ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়েছে, যা তাঁদের ফসলের ক্ষতি করেছে। একই অভিযোগ করেন কৃষক আবদুল আজিজ, তিনি বলেন, 'দীর্ঘদিন ধরে চাষাবাদ করলেও এ ধরনের ক্ষতি আগে দেখেননি। এই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া তাঁদের পক্ষে কঠিন।'
ভাটার মালিকের বক্তব্য: তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ভাটার মালিক রফিকুল ইসলাম মুকুল। তিনি জানান, তাঁর ইটভাটার চিমনী ১০০ ফুট উচ্চতা, তাছাড়া গত এক সপ্তাহ ধরে তিনি ইট পোড়াচ্ছেন না। তাই ধোঁয়ার কারণে নয়; তীব্র গরম হাওয়ার কারণে এ ক্ষতি হয়ে থাকতে পারে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের বক্তব্য: কুড়িগ্রাম জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক মো. রেজাউল করিম বলেন, ইটভাটাগুলোর ফায়ারিং চেম্বারে গ্যাস জমা থাকে। ইট পোড়ানো বন্ধ করার পর ভাটার ফায়ারিং চেম্বার মুখ খুলে দিলে ওই গ্যাসগুলো যেদিক দিয়ে পরিবেশে মুক্তি পায়, ওই অংশের চারপাশের ফসলি জমি ও পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। তাই ফায়ারিং চেম্বারের গ্যাস পরিবেশে মুক্তি দেওয়ার আগে আশেপাশের জমিতে ফসল আছে কি না সেটি দেখে নেওয়া উচিত।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মন্তব্য: রাজিবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ভারপ্রাপ্ত) ও সহকারি কমিশনার (ভূমি) সায়েকুল হাসান খান প্রতিনিধিকে জানান, এখন পর্যন্ত কৃষকদের পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাংবাদিকের তথ্য: আসাদুজ্জামান, জেলা প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম
যোগাযোগ: ০১৭১৮৬৮৫৪০৮
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।